![]() |
শ্রীবরদী উত্তর বাজারে অবস্থিত নবজাগরণ জুনিয়র প্রি-ক্যাডেট একাডেমি প্রাঙ্গণ সেজেছে নতুন সাজে। এখানেই অনুষ্ঠিত হবে শিশু উৎসব। উৎসবের প্রথম দিন সকাল নয়টায় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
নাম নিবন্ধন করতে ছোটদের অভিভাবকরাও দৌড়াদৌড়ি করছেন। ‘আমার ছেলেটা যেন বাদ না পড়ে।’ ‘দুইটা নাম দিতে হবে, তাড়াতাড়ি।’ এইরকম নানান কথা বলছেন তারা। কোনো কোনো পুঁচকে মায়ের কোলে উঠেই চলে এসেছে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে। একজন অভিভাবক তো এসে বললেন, ‘আমার মেয়েটা এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি। কিন্তু ভালো আবৃত্তি করতে পারে, আঁকতে পারে। সে কী প্রতিযোগিতা দিতে পারবে।’ মায়ের চোখে আশঙ্কা, যদি না পায়। কত দূর থেকে এসেছেন। কিন্তু একটু পরেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। কেননা প্রতিযোগিতায় একটা গ্র“প রয়েছে, নাম ‘আমরা সবার ছোট’। যে গ্র“পে কিছু না পারলেও, না করলেও বাচ্চারা অংশ নিতে পারবে!
তাইতো কবিতা আবৃত্তিতে অনেক পুঁচকেই কিছু বলতে পারেনি। কারণ ওরা এখনও স্কুলেই যায় না, তাই ভয়ে ভয়ে ছিল। কেবল দৌড়ে বেড়ায়। তারপরও এই আয়োজন স্বার্থক। ওদের সাহস তৈরির জন্যই তো আয়োজন। অনেক বুড়ো গাধাই তো অংশ নিতে চায় না লজ্জায়। আর ওরা মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে নামটা পর্যন্ত বলেছে। ওরাই তো গড়বে সামনের দিন, আগামীর ভবিষ্যৎ।
![]() |
| আসাদ চৌধুরীর হাত থেকে পুচকেটা কোলে উঠে পুরস্কার নিচ্ছে!! |
কবিতা আবৃত্তিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেছে। বুঝা গেল, অনেকেরই লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে। পাঁচটি গ্র“পে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, রচনা লেখা, একক অভিনয়, একক নৃত্য, দলীয় নৃত্য, যেমন খুশি তেমন সাজো, উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল প্রতিযোগিতাগুলোতে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ, আলোচনা ও ফুটতে দাও ফুল সম্মাননা পদক ২০১১ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও শিশুসাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী।
মনিকা আফরোজের উপস্থাপনায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি হাদিউল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘কবি আসাদ চৌধুরীকে কাছে পেয়ে আজ আমরা, আমাদের শ্রীবরদী ধন্য। শুধু শ্রীবরদী নয়, শেরপুরের ইতিহাসে একসাথে ছোটদের-বড়দের এত বড় সাহিত্যের অনুষ্ঠান দ্বিতীয়টি হয়নি।’ এজন্য তিনি শিশু কিশোর সংগঠন ফুটতে দাও ফুলকে অভিনন্দন জানান।
এরপর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানজিল রিমন ফুটতে দাও ফুল প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. সুধাময় দাস, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাকন রেজা, ছড়াকার সিরাজুল ফরিদ, লোকগবেষক রফিকুল হক আখন্দ, গল্পকার কাদের বাবু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট কবি ও শিল্পী রণজিৎ নিয়োগী।
প্রধান অতিথি কবি আসাদ চৌধুরী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী দিনগুলো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তোমরাই তো ভবিষ্যতে দেশের হাল ধরবে। তখন তোমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে- দেশে যেন আর কেউ না খেয়ে থাকে, শিার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। একটা মানুষও যেন বিনা চিকিৎসায় না মারা যায়। মানুষের কষ্টে তোমাদেরই এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাঙালি ও বাংলাদেশ আমাদের জাতিগত বিকাশ। এ বিকাশে ভাষা আন্দোলন অসামান্য অবদান রেখেছে। যদি ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়ে ভাষা শহীদরা আমাদের ভাষা অধিকার প্রতিষ্ঠা না করত তাহলে বাঙালি মুসলমানের আজকের যে বিকাশ এটি আদৌ সম্ভব হত না। ভাষা আন্দোলন পেরিয়েই আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন। যেসব মহান ব্যক্তিত্ব ইতিহাসের বিভিন্ন সময় ভূমিকা রেখেছে, তাদের জীবন থেকে আমাদের শিশুদের শেখার আছে অনেক কিছু। তাদের সাথে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এসব জাতীয় বীরদের জীবনী থেকে শিশুরা আগামী দিনের সুনাগরিক হয়ে উঠবে। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস জানতে হবে।’
আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার খুব ভালো লাগছে, শিশুদের আলোকিত করার জন্য বাংলাদেশের এক সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবরদীতে কিছু তরুণ বন্ধু ফুটতে দাও ফুল এর মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।’ তিনি যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- কবি রবিন পারভেজ, নবজাগরণ জুনিয়র পি-ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক শাহীনুল বারী, জাতীয় গণগ্রন্থাগারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইনচার্জ হামিদুর রহমান তুষার প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি কোহিনূর রুমা।
এখন থেকে প্রতি বছর বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাত কৃতি ব্যক্তিকে ফুটতে দাও ফুল সম্মাননা পদক প্রদান করা হবে। ২০১১ সালে শিশুসাহিত্যে অবদান রাখায় শিশু উৎসবে পদক তুলে দেওয়া হয়- আলম তালুকদার, আনজীর লিটন, জাহাঙ্গীর আলম জাহান, জগলুল হায়দার, লুলু আব্দুর রহমান ও রইস মনরম এর হাতে। পদকপ্রাপ্ত আরেকজন, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল কানাডায় থাকার কারণে উৎসবে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পদকপ্রাপ্তরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন ও নিজেদের লেখা পড়ে শোনান। এসময় ছড়াকার আলম তালুকদার তার ছড়ায় ছড়ায় বক্তব্যে শিশু-বুড়ো সবাইকে মাতিয়ে তুলেন। এরপর আনজীর লিটন, জাহাঙ্গীর আলম জাহান, জগলুল হায়দার, লুলু আব্দুর রহমান এবং রইস মনরমও কম যাননি।
শিশু উৎসবে উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ হাকাম হীরা, বকশীগঞ্জ সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি রজব বকসী, বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সারোয়ার জামান রতন, কবি জ্যোতি পোদ্দার, কবি শেখ সুরুজ্জামান, কবি নীহার লিখন, সাংবাদিক এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, রেজাউল করিম বকুল, কামরুজ্জামান আবু, ফেরদৌস আলী, শওকত জামান, তারেক মু. আব্দুল্লাহ রানা, তাসলিম কবির বাবু, তন্ময় রাশেদ, ফরিদ আহম্মেদ রুবেলসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি যারা সফল করে তোলেন- তাইফুর রহমান স্মরণ, আশরাফুল আলম সোহাগ, মুখলেছুর রহমান মানিক, শাহজাহান সিরাজ, আজিজুল হাকিম রাজু, তাইয়্যেবুর রহমান রিয়াদ, ফখরুল হাসান জিহাদ। উৎসব পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানজিল রিমন।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি পাঠাগার স্থাপনের
মাধ্যমে শিশু কিশোর সংগঠন ফুটতে দাও ফুল এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করি/সুন্দর ভবিষ্যৎ এসো গড়ি’ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে আট বছর পেরিয়ে সংগঠনটি নয় বছরে পদার্পণ করল। ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর এর ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে শিশু উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
@ তাইয়্যেবুর রহমান রিয়াদ


khub bhalo laglo! Ami Sri Bordi gechi 2 ber. Baliajhuri theke ami hata shuru kori ar Gojni porjonto hati.
উত্তরমুছুনApnara ja korchen - er cheye valo ar ki kora jay! Dhonnobad!
Go ahead.
উত্তরমুছুন